খুলনায় অবস্থান করছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে শামসুর রহমান রোডে রাতে তার বাড়িতে হাজির যৌথবাহিনী। গ্রেনেড বাবুকে পেতে যৌথবাহিনী তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে সব। কিন্ত তাকে না পেয়ে সেনা, নৌ এবং পুলিশের যৌথবাহিনী তল্লাশি শুরু বাড়িতে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশী পিস্তল, গোলবারুদ এবং নগদ টাকা। আটক করা হয় গ্রেনেড বাবুর ছোটভাই রাব্বি চৌধুরী এবং পিতা মিন্টু চৌধুরীকে। এসব উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হবে বলে জানায় পুলিশ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আবুল বাশার মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান এ তথ্য জানান।
এ সময়ে তিনি আরও জনান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর যৌথ টিম জানতে পারে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু নগরীর শামসুর রহমান রোডের বাড়িতে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী রাত ১ টার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করে। এই অভিযান সকাল ৭ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। কিন্তু সেখানে গ্রেনেড বাবুকে না পেয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুর ছোটভাই রাব্বির কাছ থেকে একটি বিদেশী নাইন এমএম পিস্তল, গুলিভর্তি একটি ম্যাগজিন, একটি চা-পাতি, একটি বাইনোকুলার, একটি মোবাইল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এরপর গ্রেনেড বাবুর পিতা জোনায়েদ চৌধুরী মিন্টুকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নগদ ১২ লাখ ১২ হাজার টাকা উদ্ধা করা হয়। এ অভিযানের মাঝে গ্রেনেড বাবুর মাদক ব্যবসার ম্যানেজার সোহাগ এবং সৌরভের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা সেখান থেকে নগদ ২৬ লাখ ৪ হাজার ৫৫৩ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ৪ হাজার ২৪০ রুপি উদ্ধার এবং তার মা সুষমা রানীকে সেখান থেকে আটক করা হয়। এসকল উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা থানায় আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হবে।
সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী রাব্বি চৌধুরির বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ৩ টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা তা যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীর হাত যত বড়ই হোক না কেন সে আইনের উর্ধে নয়। দলীয় কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কোন নেতা তার সাথে গ্রেনেড বাবুর সখ্য থাকলেও তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এডিসি হুমায়ুন কবির, সেনাবাহিনী মেজর দেবাশিষ, নৌবাহিনীর লে: কমান্ডার সাদমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আযম খান।
খুলনা গেজেট/ টিএ